এভারকেয়ার বিডি
২৩ জুলাই ২০২৬

জটিল কনুইয়ের আঘাতে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা এখন চট্টগ্রামেই

জটিল কনুইয়ের আঘাতে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা এখন চট্টগ্রামেই
Author

প্রফেসর ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী

লেখক


মানুষের দৈনন্দিন জীবনে হাতের স্বাভাবিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কনুইয়ের (Elbow) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাওয়া, লেখা, ভারী জিনিস তোলা কিংবা যেকোনো ধরনের কাজেই কনুইয়ের স্বাভাবিক নড়াচড়া প্রয়োজন হয়। কিন্তু দুর্ঘটনা বা আঘাতের কারণে কনুইয়ের হাড় ভেঙে গেলে শুধু তীব্র ব্যথাই নয়, হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, খেলাধুলাজনিত আঘাত এবং উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কনুইয়ের ফ্র্যাকচারের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।

 

কনুই একটি জটিল জয়েন্ট, যেখানে তিনটি হাড়, একাধিক লিগামেন্ট, পেশি এবং স্নায়ু একসঙ্গে কাজ করে। তাই এই স্থানে ফ্র্যাকচার হলে শুধু হাড় জোড়া লাগানোই নয়, জয়েন্টের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনাও চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক সময় কনুইয়ের ফ্র্যাকচারের সঙ্গে লিগামেন্ট, স্নায়ু কিংবা রক্তনালিরও ক্ষতি হতে পারে। ফলে দেরিতে চিকিৎসা নিলে হাত শক্ত হয়ে যাওয়া, স্থায়ীভাবে নড়াচড়ার সীমাবদ্ধতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

 

কনুইয়ের হাড় ভাঙার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো সড়ক দুর্ঘটনা, বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এছাড়া খেলাধুলার সময় পড়ে যাওয়া, উপর থেকে পড়ে হাতের ওপর ভর দেওয়া কিংবা কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণেও এ ধরনের আঘাত হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রেও কনুইয়ের ফ্র্যাকচার একটি পরিচিত সমস্যা। বিশেষ করে বয়স্কদের হাড় ক্ষয়জনিত কারণে তুলনামূলক কম আঘাতেও ফ্র্যাকচার হতে পারে।

 

কনুইয়ের ফ্র্যাকচারের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র ব্যথা, দ্রুত ফোলা, হাত বাঁকাতে বা সোজা করতে না পারা, কনুইয়ের আকৃতির পরিবর্তন এবং হাত নড়াতে অসুবিধা। গুরুতর ক্ষেত্রে আঙুল অবশ হয়ে যাওয়া বা রক্ত চলাচলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

 

কনুইয়ের ফ্র্যাকচার নির্ণয়ের জন্য রোগীর শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও এক্স-রে করা হয়। জটিল ফ্র্যাকচারের ক্ষেত্রে সিটি (CT) স্ক্যানের মাধ্যমে হাড়ের ক্ষতির বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়। এরপর ফ্র্যাকচারের ধরন ও জটিলতা অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

 

সব ধরনের কনুইয়ের ফ্র্যাকচারে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। যেসব ক্ষেত্রে হাড় সঠিক অবস্থানে থাকে, সেসব রোগীকে প্লাস্টার, স্লিং, ব্যথানাশক ওষুধ এবং নির্দিষ্ট সময় বিশ্রামের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে হাড় সরে গেলে, জয়েন্টের ভেতরে ফ্র্যাকচার হলে বা একাধিক স্থানে ভেঙে গেলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। আধুনিক অর্থোপেডিক সার্জারিতে প্লেট, স্ক্রু বা বিশেষ ইমপ্লান্ট ব্যবহার করে হাড়কে সঠিক অবস্থানে স্থাপন করা হয়, যাতে দ্রুত জোড়া লাগে এবং ভবিষ্যতে জয়েন্টের কার্যক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকে। চিকিৎসার পর ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনও সমান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি হাতের স্বাভাবিক নড়াচড়া ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

 

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের অর্থোপেডিকস ও জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি বিভাগে হাড়, জয়েন্ট, মেরুদণ্ড, লিগামেন্ট, টেনডন, পেশি এবং ট্রমাজনিত বিভিন্ন জটিল সমস্যার জন্য আধুনিক ও সমন্বিত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। এখানে সাধারণ অর্থোপেডিক সমস্যা থেকে শুরু করে জটিল ট্রমা, স্পোর্টস ইনজুরি, ফ্র্যাকচার, হিপ ও নি রিপ্লেসমেন্ট, আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি, হ্যান্ড ও আপার লিম্ব সার্জারি, পেলভিক ও অ্যাসিটাবুলার সার্জারি, ফুট ও অ্যাঙ্কেল সার্জারিসহ সব ধরনের অর্থোপেডিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সুবিধা রয়েছে। অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ব্যবস্থার সমন্বয়ে রোগীদের জন্য নির্ভুল রোগ নির্ণয়, উন্নত চিকিৎসা এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করছে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম।

কনুইয়ের আঘাত বা হাড় ভাঙাকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এড়ানো সম্ভব এবং হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনা যায়। তাই দুর্ঘটনার পর কনুইয়ে তীব্র ব্যথা বা নড়াচড়ায় সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।