এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে আপনাকে স্বাগতম
হৃদরোগ: নীরব ঘাতক ও প্রতিরোধের পথ


প্রফেসর ডা. শেখ মোহাম্মদ হাছান মামুন
লেখক
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো হৃদরোগ। চিকিৎসকরা একে নীরব ঘাতক বলে থাকেন, কারণ বেশিরভাগ সময় হৃদরোগের সরাসরি তেমন কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না, ফলে সচেতন না হলে বা নিশ্চিত কোন লক্ষণ দেখা না দিলে এই রোগ সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে অনেক সময় হঠাৎ করে আক্রমণ করে এটি ভয়াবহ আকার নিয়ে জীবন পর্যন্ত কেড়ে নিতে পারে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য হারে হৃদরোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সিংহভাগ মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। হৃদরোগের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো হার্ট অ্যাটাক। এছাড়াও, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, অনিয়মিত স্পন্দন বা অ্যারিদমিয়া এবং হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা হ্রাসজনিত জটিলতা ইত্যাদি সমস্যাও হৃদরোগের একেকটি অংশ, যেসব সম্পর্কে খুব কম মানুষই ধারণা রাখেন। মূলত ধমনীতে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত না করলে তা দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে থাকেন।
যেহেতু হৃদরোগের লক্ষণ সহজে বা সরাসরি প্রকাশ পায় না, সেক্ষেত্রে এ রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে জীবনমান সুস্থ ও মানসম্মত রাখাই আদর্শ সমাধান। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদরোগ বৃদ্ধির বড় কারণ। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ধূমপান, মানসিক চাপ, ব্যায়ামের অভাব ও অনিয়ন্ত্রিত ওজন— এসবই হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে দ্রুত নগরায়ণ, জাঙ্ক ফুড নির্ভরতা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভাব এ সমস্যাকে আরও শক্তিশালী করে চলছে।
হৃদরোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো জীবনধারায় পরিবর্তন আনা। বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও হাঁটার ওপর গুরুত্ব দেন। একইসাথে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান বর্জন, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বছরে অন্তত দুইবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। বিশেষত যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের মানুষদের জন্য হৃদরোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা জরুরি সেবার জন্য অন্যতম নির্ভরযোগ্য গন্তব্যস্থল এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম। এখানে আছে আধুনিক কার্ডিয়োলজি বিভাগ, ক্যাথল্যাব, বিশেষায়িত কার্ডিয়াক আইসিইউ ও ২৪/৭ জরুরি সেবা ব্যবস্থা, যা হৃদরোগী আক্রান্তদের জন্য বিশেষ সহায়ক। পাশাপাশি উন্নত হার্ট ফেইলিওর ক্লিনিক ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিভিন্ন প্যাকেজ থাকায় চট্টগ্রামে হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম।
বিশ্বব্যাপি সচেতনতা তৈরির জন্য প্রতিবছর ২৯ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব হৃদয় দিবস। এ বছরও ‘ডোন্ট মিস অ্যা বিট’ প্রতিপাদ্যের সাথে দিবসটি পালিত হচ্ছে। প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবনের অমূল্য বার্তা বহন করে, তাই কোন শারীরিক অস্বস্তি বা বুকে ব্যথাকে অবহেলা করা যাবে না—এ কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এ বছরের বার্তা। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হৃদরোগ থেকে সুরক্ষা দিতে প্রতিপাদ্য পারে।
এটি বাস্তবায়নে ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এখনই সময় জনসচেতনতা বাড়ানোর। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম থেকে কর্মক্ষেত্র—সব ক্ষেত্রে হৃদরোগ প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে করে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিতে পারেন। সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে হৃদরোগ আর নীরব ঘাতক হয়ে না থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগে পরিণত হবে, এটিই সবার কাম্য।
