এভারকেয়ার বিডি
০৬ অক্টোবর ২০২৬

জটিল কিডনি রোগে সমন্বিত চিকিৎসা: সময়মতো সঠিক কিডনি কেয়ার কেন জরুরি

জটিল কিডনি রোগে সমন্বিত চিকিৎসা: সময়মতো সঠিক কিডনি কেয়ার কেন জরুরি
Author

ডাঃ শওকত আজাদ

লেখক

কিডনি রোগ সবসময় একইভাবে প্রকাশ পায় না। কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কিডনি রোগ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, সংক্রমণ বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা যুক্ত হলে চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এই ধরনের রোগীর জন্য শুধু কিডনির একটি পরীক্ষার ফল দেখাই যথেষ্ট নয়। রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, কিডনির কার্যক্ষমতা, প্রস্রাবের পরিমাণ, রক্তচাপ, শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য এবং অন্যান্য অঙ্গের কার্যক্রম বিবেচনা করে চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে হয়।

Acute Kidney Injury: হঠাৎ কিডনি দুর্বল হয়ে যাওয়া

Acute Kidney Injury (AKI) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে অল্প সময়ের মধ্যে কিডনির কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। গুরুতর সংক্রমণ, পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, কিছু ওষুধ, অপারেশন বা অন্যান্য জটিল শারীরিক অবস্থার কারণে AKI হতে পারে।
যাদের আগে থেকেই CKD রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে AKI হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ কমে যাওয়া, শরীর ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য
কিডনি শরীরের পানি, সোডিয়াম, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনি গুরুতরভাবে দুর্বল হলে শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে পা-মুখ ফুলে যেতে পারে বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। আবার রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে হৃদযন্ত্রের ছন্দের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস ও তরল গ্রহণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমস্যা সামলানো সম্ভব হলেও গুরুতর অবস্থায় ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হতে পারে।

কখন ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হতে পারে?
ডায়ালাইসিসের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র creatinine-এর একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ওপর নির্ভর করে না। শরীরে অতিরিক্ত পানি জমা, গুরুতর electrolyte imbalance, ইউরেমিয়ার লক্ষণ বা অন্যান্য চিকিৎসাযোগ্য কারণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নেফ্রোলজিস্ট রোগীর সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করেন।

জটিল কিডনি রোগে নিয়মিত ফলোআপ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জটিল কিডনি রোগে চিকিৎসা একটি চলমান প্রক্রিয়া। নিয়মিত রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্তচাপ ও ওজন পর্যবেক্ষণ, ওষুধের সঠিক ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য ও তরল গ্রহণের পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে CKD রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া painkiller বা অন্যান্য ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ কিছু ওষুধ কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

রোগী ও পরিবারের ভূমিকা
কিডনি রোগের চিকিৎসায় রোগীর পাশাপাশি পরিবারের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হলে নিয়মিত সেশন মেনে চলা, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং সতর্কতামূলক লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

কিডনি রোগ যত জটিলই হোক, সময়মতো শনাক্তকরণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা জটিলতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কিডনির কার্যক্ষমতায় পরিবর্তন, প্রস্রাবে অস্বাভাবিকতা, শরীরে পানি জমা বা হঠাৎ প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে সঠিক কিডনি কেয়ার রোগীর জীবনমান উন্নত করতে এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।