এভারকেয়ার বিডি
৩১ মার্চ ২০২৬

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম: হজম সমস্যার আড়ালে জটিল বাস্তবতা

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম: হজম সমস্যার আড়ালে জটিল বাস্তবতা
Author

ডা. মুশফিকুল আবরার

লেখক

দীর্ঘদিন ধরে ফাঁপা পেট, কখনো ডায়রিয়া আবার কখনো কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা, পেটে মোচড়ানো ব্যথা ইত্যাদি হলেই অনেকে সাময়িক হজমের সমস্যা বলে ধরে নেন। কিন্তু গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের মতে, এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গের পেছনে অনেক সময় ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম বা আইবিএস দায়ী থাকতে পারে। এটি ডাইজেস্টিভ সিস্টেমের একটি জটিলতা, যা মেডিকেলের ভাষায় ফাংশনাল গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ডিস-অর্ডার হিসেবে পরিচিত। এক্ষেত্রে অন্ত্রের গতি ও সংবেদনশীলতার পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।এই রোগের ক্ষেত্রে সাধারণত অন্ত্রের গঠনগত কোন বড় সমস্যা দেখা না গেলেও অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে স্নায়বিক যোগাযোগ বা গাট-ব্রেইন অ্যাক্সিস-এর ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে। 

ফলস্বরূপ, অন্ত্রের স্বাভাবিক পেরিস্টালটিক মুভমেন্ট কখনো দ্রুত আবার কখনো ধীর হয়ে যেতে পারে। তাই রোগীরা ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। পাশাপাশি ফাঁপা পেট, অতিরিক্ত গ্যাস, খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তি ইত্যাদি সমস্যাও হতে পারে। 

বিভিন্ন গবেষণা মোতাবকে, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, অনিয়মিত জীবনযাপন ইত্যাদি আইবিএস-এর উপসর্গ বাড়তে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট খাদ্য উপাদান, বিশেষ করে উচ্চ ফোডম্যাপ-যুক্ত খাবার উপসর্গ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে আইবিএস-এর উপসর্গে অন্যান্য গুরুতর রোগের সঙ্গেও মিল থাকতে পারে। যেমন, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ বা আইবিডি, সিলিয়াক ডিজিজ বা কোলন ক্যান্সারের প্রাথমিক উপসর্গগুলো আইবিএস-এর মতো মনে হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের উপসর্গ থাকলে সঠিক ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

এক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী কোলনোস্কপি, রক্ত পরীক্ষা এবং অন্যান্য ডায়াগনস্টিক পদ্ধতির মাধ্যমে রোগের অবস্থা ও প্রকার নির্ধারণ করা হয়। আইবিএস চিকিৎসায় সাধারণত খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, প্রো-বায়োটিক থেরাপি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ প্রেসক্রাইব করার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 

বাংলাদেশে আধুনিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সেবার মাধ্যমে আইবিএসসহ ডাইজেস্ট সিস্টেমের বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা এখন হাতের নাগালেই পাওয়া যাচ্ছে। উন্নত এন্ডোস্কপি ও কোলোনোস্কপি সুবিধাসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে সব সমস্যা নির্ভুলভাবে সনাক্ত ও চিকিৎসা করা হয়। 

তাই দীর্ঘদিনের হজমজনিত সমস্যা বা অনিয়মিত পায়খানার সমস্যা বা উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।