এভারকেয়ার বিডি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে চালু হলো অত্যাধুনিক IVUS সেবা

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে চালু হলো অত্যাধুনিক IVUS সেবা

বন্দরনগরীর সর্ববৃহৎ হাসপাতাল এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসাসেবার অংশ হিসেবে ইন্ট্রাভাসকুলার আল্ট্রাসাউন্ড (IVUS) সেবা চালু হয়েছে। হৃদ্‌যন্ত্রের করোনারি ধমনির রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় আরও নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে এই অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি।

IVUS একটি উন্নত ইমেজিং পদ্ধতি, যার মাধ্যমে রক্তনালীর ভেতর থেকে উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি পাওয়া যায়। ক্যাথেটারের মাধ্যমে একটি ক্ষুদ্র আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব রক্তনালীতে প্রবেশ করিয়ে ধমনির দেয়াল, প্লাক বা চর্বি জমার অবস্থা এবং রক্তনালীর অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়।

প্রচলিত করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফির তুলনায় IVUS চিকিৎসকদের রক্তনালীর ভেতরের অবস্থা আরও বিস্তারিতভাবে মূল্যায়নে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে করোনারি ধমনিতে ব্লকেজের মাত্রা নির্ণয় এবং অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির সময় স্টেন্টের সঠিক অবস্থান ও আকার নির্ধারণ করা আরও নির্ভুলভাবে সম্ভব হয়।

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ডাঃ শেখ মোহাম্মদ হাছান মামুন বলেন, “এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে IVUS প্রযুক্তির সংযোজন বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসকরা আরও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যা রোগীর চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করতে এবং সম্ভাব্য জটিলতা কমাতে সহায়ক হবে।”

IVUS ব্যবহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো রোগীর শারীরিক গঠন ও রোগের প্রকৃতি অনুযায়ী আরও নির্ভুলভাবে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা। স্টেন্ট স্থাপনের ক্ষেত্রে এটি চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে, যার ফলে স্টেন্টের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা এবং স্টেন্ট-সম্পর্কিত কিছু জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

এছাড়া চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলাকালীন রিয়েল-টাইম ইমেজিংয়ের মাধ্যমে রক্তনালীর ভেতরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যবেক্ষণ করা যায়। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় এবং রোগীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা যায়।

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে IVUS সেবা চালুর মাধ্যমে করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আধুনিক রোগ নির্ণয় ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি চিকিৎসার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হলো। এই উদ্যোগ উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও রোগীকেন্দ্রিক হৃদরোগ সেবা প্রদানে হাসপাতালের ধারাবাহিক অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে।