এভারকেয়ার বিডি
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২

প্রথমবারের মতো ERCP পদ্ধতিতে পিত্তনালীর পাথর অপসারণ এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে

প্রথমবারের মতো ERCP পদ্ধতিতে পিত্তনালীর পাথর অপসারণ এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো Endoscopic Retrograde Cholangiopancreatography (ERCP) পদ্ধতিতে পিত্তনালীর পাথর সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালটেন্ট ডা. মুশফিকুল আবরার ও তাঁর নেতৃত্বাধীন মেডিকেল টিম সফলভাবে এই জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

৫৯ বছর বয়সী এক নারী জন্ডিস, জ্বর ও পেটে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পিত্তনালীতে পাথর ও পুঁজের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। রোগীর চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ হাসপাতালে ভর্তির প্রায় এক মাস আগে তিনি হৃদরোগজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়া এবং নতুন জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে আনা হয়।

রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা ও হৃদরোগজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সিনিয়র কার্ডিওলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও তাঁদের সম্মতি নেওয়ার পর উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এই রোগীর ক্ষেত্রে ডা. মুশফিকুল আবরারের তত্ত্বাবধানে ERCP পদ্ধতিতে পিত্তনালীর পাথর ও সংক্রমিত তরল অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রোগীর চিকিৎসা প্রসঙ্গে ডা. মুশফিকুল আবরার বলেন, “জন্ডিস, জ্বর ও পেটে ব্যথা, এই তিনটি উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে ‘চারকোটস ট্রায়াড’ বলা হয়। এ ধরনের উপসর্গ পিত্তনালীর সংক্রমণ বা Acute Cholangitis-এর ইঙ্গিত দিতে পারে। এই অবস্থায় দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিত্তনালীর প্রতিবন্ধকতা, পাথর বা সংক্রমিত তরল অপসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “ERCP একটি আধুনিক ও জটিল এন্ডোস্কোপিক চিকিৎসা পদ্ধতি। নির্দিষ্ট রোগীদের ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে অস্ত্রোপচার ছাড়াই পিত্তনালীর পাথর অপসারণ এবং পিত্তনালীর বাধা দূর করা সম্ভব। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা প্রয়োজন।”

এই জটিল রোগীর সফল চিকিৎসা এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের উন্নত এন্ডোস্কোপিক চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত সিদ্ধান্ত এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।