এভারকেয়ার বিডি
প্রকাশনা
৩১ জানুয়ারি ২০২৬

শিশুদের নেফ্রোটিক সিনড্রোম: কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

শিশুদের নেফ্রোটিক সিনড্রোম: কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
Author

প্রফেসর ডা. আজমেরী সুলতানা

লেখক

শিশুদের নেফ্রোটিক সিনড্রোম একটি কিডনি-সংক্রান্ত রোগ, যা সাধারণত ১ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এ রোগে কিডনির ছাঁকনি অংশ, যাকে গ্লোমেরুলি বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রস্রাবের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রোটিন বেরিয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ফোলা, সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুদের নেফ্রোটিক সিনড্রোমের কারণ

অধিকাংশ শিশুর ক্ষেত্রে নেফ্রোটিক সিনড্রোমের নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। একে মিনিমাল চেঞ্জ ডিজিজ বলা হয়, যা শিশুদের নেফ্রোটিক সিনড্রোমের সবচেয়ে সাধারণ কারণ। এছাড়াও ফোকাল সেগমেন্টাল গ্লোমেরুলোস্ক্লেরোসিস (FSGS), মেমব্রেনাস নেফ্রোপ্যাথি, জেনেটিক সমস্যা, সংক্রমণ এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে এ রোগ হতে পারে। অনেক সময় ভাইরাল সংক্রমণের পর বা কিছু ওষুধের প্রভাবে নেফ্রোটিক সিনড্রোম দেখা দেয়।

লক্ষণ ও উপসর্গ

শিশুদের নেফ্রোটিক সিনড্রোমের সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ হলো শরীর ফোলা (এডিমা)। সাধারণত সকালে চোখের চারপাশে ফোলা দেখা যায়, পরে পা, গোড়ালি, পেট ও যৌনাঙ্গে ফোলা হতে পারে। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে—প্রস্রাব ফেনাযুক্ত হওয়া, দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য, ঘন ঘন সংক্রমণ এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।

রোগ নির্ণয়

প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নেফ্রোটিক সিনড্রোম নির্ণয় করা হয়। প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিন পাওয়া যায় এবং রক্ত পরীক্ষায় অ্যালবুমিনের মাত্রা কম ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে চিকিৎসায় সাড়া না দিলে, কিডনি বায়োপসি করা হতে পারে।

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা

শিশুদের নেফ্রোটিক সিনড্রোমের প্রধান চিকিৎসা হলো স্টেরয়েড থেরাপি, যা অধিকাংশ শিশুর ক্ষেত্রে কার্যকর। স্টেরয়েড কিডনি থেকে প্রোটিন ক্ষরণ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ফোলা কমানোর জন্য ডাইইউরেটিক, সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ দেওয়া হতে পারে। লবণ কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কিছু শিশুর ক্ষেত্রে বারবার রোগ ফিরে আসতে পারে বা স্টেরয়েডে কাজ না করতে পারে। তখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে অন্যান্য ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। নিয়মিত ফলোআপ অত্যন্ত জরুরি।

ভবিষ্যৎ ও পূর্বাভাস

সঠিক চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ শিশু সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। সংক্রমণের সময় রোগ পুনরায় দেখা দিতে পারে, তবে স্টেরয়েডে সাড়া দেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি ক্ষতি সাধারণত হয় না।

শিশুদের নেফ্রোটিক সিনড্রোম সময়মতো শনাক্ত ও সঠিকভাবে চিকিৎসা করলে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে শিশুরা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।


লেখক :

প্রফেসর ডা.আজমেরী সুলতানা

সিনিয়র কনসালটেন্ট - (পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি)

পেডিয়াট্রিক্স

এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা