এভারকেয়ার বিডি
প্রকাশনা
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেডিওথেরাপি: ক্যান্সার চিকিৎসায় আধুনিক, নির্ভুল ও কার্যকর একটি চিকিৎসা পদ্ধতি

রেডিওথেরাপি: ক্যান্সার চিকিৎসায় আধুনিক, নির্ভুল ও কার্যকর  একটি চিকিৎসা পদ্ধতি
Author

ডা. বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য

লেখক

ক্যান্সার নির্ণয়ের পর রোগী ও পরিবারের মনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়—কোন চিকিৎসা প্রয়োজন, কতদিন চিকিৎসা চলবে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কতটা হতে পারে এবং চিকিৎসার জন্য কি বিদেশে যেতে হবে? ক্যান্সারের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল ব্যবহৃত চিকিৎসা পদ্ধতি। ক্যান্সারের ধরন, অবস্থান, স্টেজ ও রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে রেডিওথেরাপি এককভাবে অথবা সার্জারি ও কেমোথেরাপির সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া হতে পারে।

রেডিওথেরাপি হলো উচ্চ-শক্তির রেডিয়েশন ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস বা তাদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করার চিকিৎসা। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যান্সারের নির্দিষ্ট স্থানে পরিকল্পিতভাবে রেডিয়েশনের ডোজ দেওয়া যায়, যাতে টিউমারকে লক্ষ্য করার পাশাপাশি আশপাশের সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি যতটা সম্ভব কম রাখা যায়। রেডিওথেরাপি বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে—ক্যান্সার সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে, অস্ত্রোপচারের আগে বা পরে, কেমোথেরাপির সঙ্গে সমন্বিতভাবে অথবা কিছু ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে।

ক্যান্সারের বিভিন্ন পর্যায়ে রেডিওথেরাপি প্রয়োজন হতে পারে। কোন রোগীর জন্য রেডিওথেরাপি প্রয়োজন, কত ডোজ প্রয়োজন এবং কী ধরনের রেডিওথেরাপি দেওয়া হবে—এসব সিদ্ধান্ত রোগীর ক্যান্সারের ধরন, অবস্থান, স্টেজ এবং অন্যান্য চিকিৎসার সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নির্ধারণ করেন।

প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে রেডিওথেরাপি এখন আগের তুলনায় আরও পরিকল্পিত ও নির্ভুলভাবে দেওয়া সম্ভব। সঠিক রোগী নির্বাচন, চিকিৎসা পরিকল্পনা, ইমেজিং এবং আধুনিক রেডিয়েশন ডেলিভারি প্রযুক্তির সমন্বয়ে চিকিৎসাকে আরও নির্ভুল করার চেষ্টা করা হয়।

রেডিওথেরাপি নিয়ে অনেক রোগীর মধ্যে ভয় ও ভুল ধারণা কাজ করে। রেডিয়েশন শব্দটি শুনেই অনেকে মনে করেন চিকিৎসাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা অসহনীয়। বাস্তবে আধুনিক রেডিওথেরাপি অত্যন্ত পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। রোগীর ক্যান্সারের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার ধরন ও ডোজ নির্ধারণ করা হয়।

তবে রেডিওথেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং তা নির্ভর করে চিকিৎসার স্থান, ডোজ ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর। তাই চিকিৎসা শুরুর আগে রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট -এর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যান্সারের চিকিৎসা একটি দীর্ঘ ও মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং যাত্রা। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময়, ভ্রমণ, থাকার ব্যবস্থা, খরচ এবং পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকার মতো বিষয় যুক্ত হতে পারে।

এখন বাংলাদেশেই আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা -তে আধুনিক রেডিওথেরাপি প্রযুক্তি, রেডিয়েশন অনকোলজি বিশেষজ্ঞ এবং ক্যান্সার চিকিৎসার বিভিন্ন সেবা একই ছাদের নিচে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অর্থাৎ, চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিদেশে যাওয়াকেই একমাত্র পথ হিসেবে না দেখে দেশে উপলব্ধ আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা ও বিশেষজ্ঞ মতামত সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চিকিৎসক রেডিওথেরাপির পরামর্শ দিলে দ্রুত একজন রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট -এর সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। রোগীর রিপোর্ট, ক্যান্সারের ধরন ও স্টেজ মূল্যায়নের পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন রেডিওথেরাপি প্রয়োজন কি না এবং হলে কোন পদ্ধতি সবচেয়ে উপযোগী।

মনে রাখতে হবে, ক্যান্সারের চিকিৎসায় সময় গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে সঠিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


লেখক:

ডা. বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য

সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর

রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগ

এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা