এভারকেয়ার বিডি
প্রকাশনা
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

টনসিলের সমস্যা: কখন চিন্তিত হওয়া উচিত?

টনসিলের সমস্যা: কখন চিন্তিত হওয়া উচিত?
Author

ডা. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান রাসেল

লেখক

আমাদের অনেকেই টনসিলের নাম শুনেছি, বিশেষ করে যখন আমাদের বা আমাদের সন্তানের গলা ব্যথা হয়। কিন্তু টনসিল আসলে কী এবং কখন এটি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়?

টনসিল হলো গলার পেছনের দিকে অবস্থিত দুটি ছোট ও নরম টিস্যু—একটি করে দুই পাশে। এগুলো শরীরের নিরাপত্তারক্ষীর মতো কাজ করে, মুখ ও নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করা জীবাণু প্রতিরোধ করে। বিশেষ করে শৈশবকালে এই ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীর নিজেই সংক্রমণের বিরুদ্ধে আরও ভালোভাবে লড়াই করতে শেখে। ফলে টনসিলের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যায় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণত টনসিল আকারে ছোট হয়ে আসে।

টনসিল আসলে কী কাজ করে?

টনসিল শরীরকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মতো জীবাণু চিনে নিতে সাহায্য করে। এতে এমন বিশেষ কোষ থাকে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। সহজভাবে বললে, টনসিল আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ—যা মূলত জীবনের শুরুর দিকেই বেশি কার্যকর।

টনসিলের সাধারণ সমস্যা

টনসিলের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো টনসিলাইটিস, অর্থাৎ টনসিল ফুলে যাওয়া ও সংক্রমণ হওয়া।

  • ভাইরাল টনসিলাইটিস খুবই সাধারণ এবং সাধারণত বিশ্রাম নিলে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়।
  • ব্যাকটেরিয়াল টনসিলাইটিস (প্রায়ই স্ট্রেপ্টোকক্কাল ব্যাকটেরিয়ার কারণে) হলে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে।

কিছু মানুষের—বিশেষ করে শিশুদের—বারবার টনসিলাইটিস হয়। একে বলা হয় ক্রনিক টনসিলাইটিস। এর ফলে হতে পারে:

  • বারবার গলা ব্যথা
  • মুখে দুর্গন্ধ
  • টনসিল বড় হয়ে যাওয়া

কখনও কখনও টনসিল এতটাই বড় হয়ে যায় যে শ্বাসনালী আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে হতে পারে:

  • জোরে নাক ডাকা
  • ঘুমের সময় শ্বাস নিতে সমস্যা
  • স্লিপ অ্যাপনিয়া (বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে)
যেসব লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখবেন
  • টনসিল সংক্রমণের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
  • গলা ব্যথা
  • গিলতে ব্যথা হওয়া
  • টনসিল লাল ও ফুলে যাওয়া
  • টনসিলে সাদা বা হলুদ দাগ পড়া
  • জ্বর
  • গলার লিম্ফ গ্রন্থি ফুলে যাওয়া
  • মুখে দুর্গন্ধ
শিশুদের ক্ষেত্রে আরও যেসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে:

  • খিটখিটে মেজাজ
  • খাবারে অরুচি
  • মাঝে মাঝে পেট ব্যথা

টনসিলাইটিসের চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?

সাধারণত চিকিৎসক গলা পরীক্ষা করেই টনসিলাইটিস নির্ণয় করেন। কখনও কখনও ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি আছে কি না তা জানার জন্য থ্রোট সোয়াব টেস্ট করা হয়।

ভাইরাল টনসিলাইটিস:

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম
  • বেশি করে তরল পান করা
  • কুসুম গরম লবণ পানিতে গার্গল করা
  • সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ

ব্যাকটেরিয়াল টনসিলাইটিস

  • অ্যান্টিবায়োটিক (পুরো কোর্স সম্পূর্ণ করা অত্যন্ত জরুরি)

যদি কারও বারবার গুরুতর টনসিল সংক্রমণ হয় বা টনসিল বড় হয়ে শ্বাস নিতে সমস্যা সৃষ্টি করে, তবে চিকিৎসক টনসিল অপারেশন (টনসিলেকটমি) করার পরামর্শ দিতে পারেন। তবে এই সিদ্ধান্ত তখনই নেওয়া হয়, যখন টনসিল দৈনন্দিন জীবনযাপন, পড়াশোনা বা ঘুমে স্পষ্টভাবে বাধা সৃষ্টি করে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের যেকোনো ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—

  • গলা ব্যথা কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হলে
  • উচ্চ জ্বর থাকলে
  • গিলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে
  • টনসিলাইটিস বারবার ফিরে এলে

সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব এবং গলা সুস্থ রাখা যায়। আপনি যদি নিশ্চিত না হন, তাহলে দেরি না করে আগেভাগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

লেখক: 

সিনিয়র কনসালটেন্ট 
ই এন টি এন্ড হেড নেক সার্জারি
এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা