এভারকেয়ার বিডি
প্রকাশনা
১৫ আগস্ট ২০২৬

ব্রেন টিউমার কী? লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসার উপায়

ব্রেন টিউমার কী? লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসার উপায়
Author

প্রফেসর ডা. মোঃ জিল্লুর রহমান

লেখক

ব্রেন টিউমার হলো মস্তিষ্কের ভেতরে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এটি ক্যান্সারজনিত (ম্যালিগন্যান্ট) অথবা অ-ক্যান্সারজনিত (বিনাইন) উভয়ই হতে পারে। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব।

ব্রেন টিউমারের ধরন

ব্রেন টিউমার সাধারণত দুই ধরনের হয়:

  • প্রাইমারি ব্রেন টিউমার: মস্তিষ্ক থেকেই উৎপন্ন হয়
  • সেকেন্ডারি (মেটাস্ট্যাটিক) টিউমার: শরীরের অন্য অংশের ক্যান্সার থেকে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে

সাধারণ লক্ষণ

ব্রেন টিউমারের উপসর্গ টিউমারের আকার, অবস্থান ও বৃদ্ধির গতির ওপর নির্ভর করে। সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো:

  • দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রমবর্ধমান মাথাব্যথা
  • বমি বা বমি ভাব
  • দৃষ্টিশক্তির সমস্যা (ঝাপসা বা দ্বৈত দেখা)
  • খিঁচুনি (Seizure)
  • ভারসাম্যহীনতা বা হাঁটতে সমস্যা
  • কথা বলা বা বুঝতে অসুবিধা
  • স্মৃতিশক্তি বা আচরণে পরিবর্তন

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সম্ভাব্য কারণ ও ঝুঁকি

ব্রেন টিউমারের নির্দিষ্ট কারণ সবসময় জানা যায় না। তবে কিছু ঝুঁকির কারণ রয়েছে:

  • জেনেটিক (বংশগত) কারণ
  • পূর্বে রেডিয়েশন এক্সপোজার
  • কিছু বিরল জেনেটিক সিনড্রোম

কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

ব্রেন টিউমার নির্ণয়ে আধুনিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে:

  • MRI (Magnetic Resonance Imaging)
  • CT Scan
  • Biopsy (টিস্যু পরীক্ষা)

এসব পরীক্ষার মাধ্যমে টিউমারের ধরন ও অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।

 আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

বর্তমানে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়:

  • নিউরোসার্জারি (অপারেশন)
  • রেডিওথেরাপি
  • কেমোথেরাপি
  • টার্গেটেড থেরাপি

অনেক ক্ষেত্রে একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতির সমন্বয় করা হয়।

সচেতনতা ও করণীয়

যদিও সব ব্রেন টিউমার প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবুও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • দীর্ঘদিনের উপসর্গ অবহেলা করবেন না
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
  • স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখুন

ব্রেন টিউমার একটি জটিল রোগ হলেও এটি আর অজেয় নয়। আধুনিক চিকিৎসা, দক্ষ চিকিৎসক এবং সময়মতো পদক্ষেপ—এই তিনটি বিষয়ই রোগীর সুস্থতার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।

তাই ভয় নয়, সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসাই হতে পারে আপনার বা আপনার প্রিয়জনের সুরক্ষার পথ।


লেখকঃ

প্রফেসর ডা. মোঃ জিল্লুর রহমান

সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর

নিউরোসার্জারি বিভাগ

এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা