এভারকেয়ার বিডি
প্রকাশনা
১৪ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বমানের স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা এখন দেশেই

বিশ্বমানের স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা এখন দেশেই
Author

ডা. ফেরদৌস শাহরিয়ার সাঈদ

লেখক

স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার মুহূর্তটি একজন রোগী ও তাঁর পরিবারের জীবনে অনেক প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা নিয়ে আসে। কোথা থেকে চিকিৎসা শুরু হবে? কোন চিকিৎসা পদ্ধতি উপযুক্ত? অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি নাকি রেডিওথেরাপি—কোনটি প্রয়োজন? উন্নত চিকিৎসার জন্য কি বিদেশে যেতে হবে? বর্তমানে বাংলাদেশেই বিশ্বমানের ও সমন্বিত স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা-তে আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা এবং বহুবিষয়ক চিকিৎসা-সমন্বয়ের মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারের নির্ণয় থেকে চিকিৎসা ও পরবর্তী সহায়তামূলক সেবা পর্যন্ত একটি সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা সবার জন্য এক নয়। ক্যান্সারের ধরন ও পর্যায়, টিউমারের বৈশিষ্ট্য, রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসাগত প্রয়োজন—বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা-তে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় মেডিকেল অনকোলজি, সার্জিক্যাল অনকোলজি এবং রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি ব্রেস্ট ক্লিনিক ও সহায়ক চিকিৎসাসেবার সমন্বয়ে একটি সমন্বিত চিকিৎসা-ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসা পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সিস্টেমিক বা সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই সমন্বিত চিকিৎসা-পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা জটিল রোগীর ক্ষেত্রে একসঙ্গে চিকিৎসার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়তা করেন। এভারকেয়ারের ক্যান্সার কেয়ার সেন্টারে টিউমার বোর্ডের মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা নিয়ে সমন্বিত আলোচনা করা হয়।

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় সময়মতো এবং নির্ভুল রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা-এর ব্রেস্ট ক্লিনিকে রোগীর উপসর্গ ও চিকিৎসাগত প্রয়োজন অনুযায়ী ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট পরীক্ষা, ম্যামোগ্রাফি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কোর বায়োপসি বা ফাইন-নিডল অ্যাসপিরেশন-এর মতো পরীক্ষা করা হয়।

এছাড়াও হাসপাতালে রয়েছে আধুনিক ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং সুবিধা, যার মধ্যে PET-CT অন্যতম। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি ক্যান্সারের পর্যায় নির্ধারণ এবং চিকিৎসা পরিকল্পনায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। 

অনেক রোগীর ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্যান্সারের ধরন, টিউমারের আকার ও অবস্থান, রোগের পর্যায় এবং রোগীর অন্যান্য শারীরিক বিষয় বিবেচনা করে উপযুক্ত অস্ত্রোপচার পদ্ধতি নির্বাচন করা হয়। চিকিৎসাগতভাবে উপযুক্ত ক্ষেত্রে এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা-এর সার্জিক্যাল অনকোলজি সেবার আওতায় স্তন সংরক্ষণমূলক (organ-preserving) অস্ত্রোপচারের সুযোগ রয়েছে।

অনেক স্তন ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর অথবা রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য ক্ষেত্রে চিকিৎসক রেডিওথেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন। এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা-এর রেডিয়েশন অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগে রয়েছে আধুনিক LINAC HD-VERSA Signature প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের রেডিওথেরাপি প্রদান করা সম্ভব। চিকিৎসাগতভাবে উপযুক্ত ক্ষেত্রে স্টেরিওট্যাকটিক রেডিওথেরাপি-ও প্রয়োগ করা যেতে পারে। রোগীর ক্যান্সারের ধরন, অবস্থান, পর্যায় এবং সামগ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা বিবেচনা করে রেডিওথেরাপির পরিকল্পনা করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ক্যান্সার আক্রান্ত স্থানে প্রয়োজনীয় মাত্রায় রেডিয়েশন পৌঁছে দেওয়া এবং আশপাশের সুস্থ টিস্যুর অপ্রয়োজনীয় এক্সপোজার যতটা সম্ভব সীমিত রাখা।

ক্যান্সারের চিকিৎসা শারীরিক ও মানসিক—দুই দিক থেকেই একটি চ্যালেঞ্জিং যাত্রা। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, থাকা-খাওয়ার অতিরিক্ত ব্যয়, সময় এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিবার ও প্রিয়জনদের কাছ থেকে দূরে থাকার মতো বিষয়ও যুক্ত হতে পারে। এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা-তে আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা, অভিজ্ঞ অনকোলজি বিশেষজ্ঞ, সার্জিক্যাল অনকোলজি সেবা, আধুনিক রেডিওথেরাপি প্রযুক্তি এবং সমন্বিত ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ থাকায় রোগীরা দেশেই, আপনজনদের কাছাকাছি থেকে তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় বিকল্পগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রেই স্তন ক্যান্সারের সফল চিকিৎসা সম্ভব। তাই নিজের স্তনের স্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা, অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করা গুরুত্বপূর্ণ। স্তনে নতুন কোনো চাকা, অস্বাভাবিক ফোলা, আকৃতি বা ত্বকের পরিবর্তন, নিপল থেকে অস্বাভাবিক নিঃসরণ কিংবা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলে তা অবহেলা না করে উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা-তে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে রোগীর পাশে থাকার লক্ষ্যে রয়েছে সমন্বিত ক্যান্সার কেয়ার ব্যবস্থা—যেখানে নির্ভুল রোগ নির্ণয়, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত দক্ষতা এবং সহমর্মিতাপূর্ণ সেবার সমন্বয়ে রোগী ও তাঁর পরিবারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাযাত্রা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

লেখক:
সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর 
মেডিকেল অনকোলজি ডিপার্টমেন্ট 
এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা