এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকায় আপনাকে স্বাগতম
হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি হলে অবহেলা নয়, প্রয়োজন দ্রুত চিকিৎসা


মেজর জেনারেল প্রফেসর ডা. মোঃ আনিছুর রহমান হাওলাদার
লেখক
হাঁটু আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্টগুলোর একটি। হাঁটা, দৌড়ানো, সিঁড়ি ভাঙা কিংবা খেলাধুলা প্রতিটি কাজেই হাঁটুর ওপর নির্ভর করতে হয়। হাঁটুর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে লিগামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাঁটুর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয় এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে তরুণ, খেলোয়াড় এবং সক্রিয় জীবনযাপনকারীদের মধ্যে হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খেলাধুলার সময় হঠাৎ মোচড় খাওয়া, দ্রুত দিক পরিবর্তন করা বা সংঘর্ষের কারণে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে। এছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এবং দৈনন্দিন জীবনে হঠাৎ পা পিছলে হাঁটু মোচকে যাওয়ার ঘটনাও লিগামেন্ট ইনজুরির অন্যতম কারণ। অনেক সময় রোগীরা প্রাথমিকভাবে এটিকে সাধারণ আঘাত মনে করে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে হাঁটুর গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
লিগামেন্ট ইনজুরির পর সাধারণত হাঁটু ফুলে যায় এবং ব্যথা অনুভূত হয়। হাঁটু ভাঁজ করা বা সোজা করতে কষ্ট হয় এবং হাঁটার সময় হাঁটু অস্থির মনে হতে পারে। অনেক রোগী অভিযোগ করেন যে হাঁটুর ওপর ভর দিলে এটি হঠাৎ ঘুরে যায় বা ছুটে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি নির্ণয়ের জন্য রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি এক্স-রে এবং এমআরআই পরীক্ষা করা হয়। এমআরআই-এর মাধ্যমে লিগামেন্ট, মেনিস্কাস এবং হাঁটুর অন্যান্য নরম টিস্যুর ক্ষতি বিস্তারিতভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়, যা সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করে।
প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে বরফ প্রয়োগ, ব্যথানাশক ওষুধ, হাঁটুর ব্রেস ব্যবহার এবং বিশ্রামের মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে গুরুতর লিগামেন্ট ইনজুরির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এসব চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে হাঁটু বারবার ছুটে গেলে বা স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে না এলে আধুনিক আর্থ্রোস্কপিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। এই পদ্ধতিতে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ক্যামেরা ও বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত লিগামেন্ট পুনর্গঠন করা হয়। ফলে বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব হয় এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
লিগামেন্ট ইনজুরির চিকিৎসা দেরি করলে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন হাঁটুর অস্থিতিশীলতা থাকলে অন্যান্য লিগামেন্ট ও মেনিস্কাস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে অল্প বয়সেই হাঁটুর ক্ষয়জনিত রোগ বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। তাই সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলার আগে পর্যাপ্ত ওয়ার্ম-আপ করা, নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে পায়ের পেশি শক্তিশালী রাখা এবং সঠিক কৌশলে খেলাধুলা করা ইনজুরির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার অর্থোপেডিকস ও স্পোর্টস ইনজুরি বিভাগে হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরির জন্য রয়েছে বিশ্বমানের চিকিৎসা সুবিধা। অত্যাধুনিক এমআরআই প্রযুক্তি, উন্নত আর্থ্রোস্কপি সিস্টেম এবং অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনদের সমন্বয়ে এখানে রোগীদের জন্য সর্বাধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসন ও ফিজিওথেরাপি সেবার মাধ্যমে রোগীদের দ্রুত স্বাভাবিক ও সক্রিয় জীবনে ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত সেবা প্রদান করা হয়।
হাঁটুর ব্যথা, ফোলা বা অস্বাভাবিক অস্থিরতাকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কারণ সময়মতো চিকিৎসাই পারে আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা থেকে রক্ষা করতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে।
লেখক:
মেজর জেনারেল প্রফেসর ডা. মোঃ আনিসুর রহমান হাওলাদার
সিনিয়র কনসালটেন্ট
অর্থোপেডিক্স ডিপার্টমেন্ট
এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা
