এভারকেয়ার বিডি
প্রকাশনা
২৩ আগস্ট ২০২৬

হিপের ব্যথায় অবহেলা নয়, দ্রুত নিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

হিপের ব্যথায় অবহেলা নয়, দ্রুত নিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
Author

মেজর জেনারেল প্রফেসর ডা. মোঃ আনিছুর রহমান হাওলাদার

লেখক

হিপ বা নিতম্ব আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্টগুলোর একটি। দাঁড়ানো, হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা, বসা কিংবা দৈনন্দিন প্রায় সব ধরনের চলাফেরার সঙ্গে এই জয়েন্টের সম্পর্ক রয়েছে। তাই হিপে ব্যথা শুরু হলে তা শুধু শারীরিক অস্বস্তিই সৃষ্টি করে না, বরং কর্মক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মানকেও প্রভাবিত করতে পারে। 

হিপের ব্যথার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিসসহ বিভিন্ন বাতজনিত রোগ হিপ জয়েন্টে প্রদাহ ও ক্ষতির কারণ হতে পারে। আবার যক্ষ্মা (টিবি) বা অন্যান্য সংক্রমণও হিপ জয়েন্ট আক্রান্ত করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হিপের বল বা ফিমোরাল হেডে রক্ত সরবরাহ কমে গেলে হাড় ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যাকে এভাসকুলার নেক্রোসিস (AVN) বলা হয়। এছাড়া জন্মগতভাবে হিপের গঠনগত ত্রুটি, দুর্ঘটনাজনিত আঘাত বা হিপ ফ্র্যাকচারও দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যার কারণ হতে পারে।

হিপের ব্যথার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, অনেক সময় ব্যথা শুধু হিপে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি কোমর, কুঁচকি, উরু কিংবা হাঁটু পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। ফলে অনেক রোগী প্রথমে কোমর বা হাঁটুর চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রকৃত সমস্যাটি বুঝতে পারেন না। হিপ জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া, স্বাভাবিকভাবে পা নাড়াতে কষ্ট হওয়া, হাঁটতে বা সিঁড়ি ভাঙতে অসুবিধা হওয়া এবং ধীরে ধীরে খুঁড়িয়ে হাঁটা এসবই হিপের সমস্যার সাধারণ লক্ষণ।

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ, ফিজিওথেরাপি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সাঁতারের মতো জয়েন্টবান্ধব শারীরিক কার্যক্রম হিপের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন স্টেরয়েড সেবন থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এটি কিছু ক্ষেত্রে হিপের হাড়ের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তবে রোগ যদি অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং হিপ জয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে। বর্তমান বিশ্বে হিপ রেপ্লেসমেন্ট সার্জারি একটি অত্যন্ত সফল সার্জারি। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাইমারি টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট (THR), কমপ্লেক্স প্রাইমারি টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট এবং রিভিশন টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্টের মতো উন্নত অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এসব অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীরা দীর্ঘদিনের ব্যথা থেকে মুক্তি পেয়ে আবারও স্বাভাবিক ও সক্রিয় জীবনে ফিরতে পারেন।

এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা-র অর্থোপেডিকস ও জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি বিভাগে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে হিপ ও হাঁটুর জটিল রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। হাসপাতালটির বিশেষজ্ঞরা রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন, যাতে রোগী সর্বোত্তম ফলাফল পান। প্রাথমিক রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসন এবং পরবর্তী ফলো-আপ সব ধাপেই রোগীরা সমন্বিত ও বিশ্বমানের সেবা পেয়ে থাকেন।

হিপের ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে বা দৈনন্দিন চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করলে তা অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই জটিলতা এড়ানো সম্ভব এবং সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা যায়।


লেখক:

মেজর জেনারেল প্রফেসর ডা. মোঃ আনিছুর রহমান হাওলাদার

সিনিয়র কনসালটেন্ট

অর্থোপেডিক্স ডিপার্টমেন্ট 

এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা